২০০৫ সালে ভাব বাংলাদেশ কাকরাইলে অফিস নিয়ে বাংলাদেশে নিজেরাই কাজ শুরু করার পর থেকে শিক্ষার পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। ২০১২ সালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, নীলফামারী সদর, কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে ৫টি স্কুল নিয়ে ক্লাস্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলে বিতর্ক ক্লাব গঠন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার উপর আরও জোর দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবের সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে এক একটি ক্লাস্টারে স্কুলের মধ্যে বিতর্ক ক্লাব গঠন, কর্মশালা ও প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করে। এছাড়া নীলফামারী সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, যশোরের কেশবপুর, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ভাব শিক্ষা মেলার আয়োজন করে। এই শিক্ষামেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্ত:স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শিক্ষামেলায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ক্লাস্টারে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নীলফামারী সদর ক্লাস্টারে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
২০২১ সালে ভাব বাংলাদেশ রোটারি গ্লোবাল গ্র্যান্ট প্রকল্পের আওতায় এবং ২০২২ সালে গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় শুরু হওয়া মালালা ফান্ড প্রজেক্টে নারীদের সমস্যাগুলোর উপর জোর দিয়ে বিতর্ক ক্লাব গঠন, বিতর্ক কর্মশালা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)-র নেতৃস্থানীয় খ্যাতিমান বিতার্কিকরা কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী এবং নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় গিয়ে ৮টি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক ক্লাব গঠন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে ভাব বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছেন এবং কর্মজীবনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও ভাব বাংলাদেশের বিতর্ক কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছেন। এঁদের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার জনাব আবু বক্কর সিদ্দিক প্রিন্স, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক জনাব আব্দুল কাইয়ুম উল্লেখযোগ্য। বিতর্কের প্রসারে ভাব বাংলাদেশ ও গণসাক্ষরতা অভিযান যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে বিতর্কের প্রশিক্ষণ পেয়েছে তারা দেশের নামকরা কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্কে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং অনেকেই উচ্চপদস্থ চাকরিতে কর্মরত আছে। ভাব বাংলাদেশ এ পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ে ২০৮টি বিতর্ক ক্লাব গঠন, ৪২টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ২১০টি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এছাড়াও ১৫০০ শিক্ষার্থীকে বিতর্ক সংক্রান্ত বই প্রদান, ১২০টি স্কুলে বিতর্ক পরিচালনার উপকরণ প্রদান, ২৭টি আন্ত:স্কুল বিতর্ক টুর্ণামেন্ট আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ, ১২৫টি স্কুলের ১,২৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ২১০ জন শিক্ষককে বিতর্কের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে।